Friday, April 23, 2010

অপরাধ '৭১: প্রশ্ন খণ্ডন করলেন একদল আইনজীবী

ঢাকা, এপ্রিল ২২ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- '৭১-এর মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধ বিচারে দেশে-বিদেশে ওঠা বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিয়েছে আইনজীবীদের একটি দল।

'৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগীদের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধ বিচারে গঠিত তদন্ত সংস্থা, আইনজীবী প্যানেল এবং ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কে সম্প্রতি বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর তোলা বিভিন্ন 'প্রশ্ন' ও সম্ভাব্য প্রশ্ন মিলিয়ে ৪৮টি প্রশ্নের 'উত্তর' দেয় দলটি।

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট বার মিলনায়তনে '৭১-এর গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের বিচার : দেশে-বিদেশে প্রশ্ন' শীর্ষক এক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানে এমত দেন দলটির আইনজীবীরা।

অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে যুদ্ধাপরাধ বিচার বিষয়ক নাগরিক কমিশন এবং ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি।

আইনজীবী দলে আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ, আইন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকট সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, বিচারপতি মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী, বিচারপতি সৈয়দ আমীরুল ইসলাম, আইন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক এম শাহ আলম, সাবেক রাষ্ট্রদূত সৈয়দ ওয়ালি-উর-রহমান, সাউথ এশিয়ান ইন্সটিটিউট অব অ্যাডভান্সড লিগাল এইড অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান খান, আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক, অপরাধ বিচারে গঠিত আইনজীবী প্যানেলের প্রধান গোলাম আরিফ টিপু ও ড. তুরীন আফরোজ সদস্য হিসাবে উপস্থিত ছিলেন।

নির্মূল কমিটির নেতা শাহরিয়ার কবিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক কবীর চৌধুরী।

দলটির মতে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগীদের করা অপরাধের বিচার ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইবুনালস) আইনেই স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের হবে।

গত ১৬ এপ্রিল একটি সেমিনারে 'একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত ট্রাইবুনালে আসামিদের আপিলের সুযোগ নেই' অভিযোগ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন সংশোধনের দাবি জানায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী সমর্থক আইনজীবীরা।

দি ন্যাশনাল ফোরাম ফর প্রোটেকশন অব হিউম্যান রাইটসের (এনএফপিএইচআর) ওই সেমিনারে বলা হয়, ১৯৭৩ সালের ওই আইনে সঠিক বিচার সম্ভব নয়।

সাবেক স্পিকার ও বিএনপির সংসদ সদস্য মুহাম্মদ জমিরউদ্দিন সরকার ওই সংগঠনটির প্রধান।

প্রশ্নোত্তর পর্বে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর তোলা বিভিন্ন প্রশ্ন 'বিভ্রান্তিকর' বলে বৃহস্পতিবার মন্তব্য করেন আইনজীবীরা।

"আওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের অবস্থান থেকে সরে এসেছে� এই অভিযোগ ঠিক নয়," মন্তব্য করে আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ বলেন, "আমরা আগেই বলেছি মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করেছে আমরা তাদেরই বিচার করবো।"

এ বিচারে সাক্ষীদের নিরাপত্তা সরকার আইন করার কথা ভাবছে বলেও জানান তিনি।

শফিক বলেন, "তদন্ত সংস্থা, আইনজীবী প্যানেল এবং ট্রাইবুনালের সদস্যদের নিরাপত্তার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মান্ত্রণালয় ব্যবস্থা নিয়েছে।"

ড. শাহদীন মালিক বলেন, "ট্রাইবুনাল নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলা হচ্ছে এটি আন্তর্জাতিক মানের নয়। আইন সম্পর্কে আমার ধারণা থেকে বলতে পারি যারা এটি বলছেন তারা হয় অজ্ঞ না হয় জেনেশুনেই মিথ্যা বলছেন।

"কেননা এই ট্রাইবুনালে একজন অভিযুক্ত আত্মপক্ষ সমর্থন করতে পারবেন, আইনজীবী নিয়োগ করতে পারবেন, সাক্ষীদের জেরা করতে পারবেন, এমনকি অভিযোগ প্রমাণিত হলে আপিলও করতে পারবেন।"

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, "আইন কখনো তামাদি হয় না। ৩৯ বছর পর এই বিচার হতে যাচ্ছে। এটা খুব বেশি সময় পর নয়, কারণ দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের অপরাধের বিচার এখনো হচ্ছে।"

বঙ্গবন্ধু রাজাকার, আলবদরদের সাধারণ ক্ষমা করেননি বলে জানান তিনি।

সুরঞ্জিত বলেন, "তিনি দালাল আইনে ৬০ হাজার অপরাধীর বিচারের উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

"কিন্তু ৭৫-এর পরে সেনাপতি-বিচারপতি আর ভগ্নিপতিরা দেশ এবং দেশের সংবিধানকে ছিন্নভিন্ন করে রাজাকারদের পুনর্বাসিত করেছেন।"

স্বাধীনতার পর কোন যুদ্ধাপরাধী আওয়ামী লীগে আশ্রয় নিয়ে থাকলে তারও বিচার হবে বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

অধ্যাপক মিজানুর রহমান খান বলেন, "অভিযুক্তদের পছন্দমত বিচারক নিয়োগ দিতে হবে এমন আবদার পৃথিবীর কোন দেশেই নেই। কাকে বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে সে বিষয়ে রাষ্ট্রের একচ্ছত্র অধিকার রয়েছে।"

পৃথিবীর কোন দেশই জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করতে পারবে না� দলটির আমির মতিউর রহমান নিজামীর এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে বিচারপতি সৈয়দ আমীরুল ইসলাম বলেন, "দেশের সব মানুষই জানে '৭১-এ তারা কী অপকর্ম করেছে।"

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক কবীর চৌধুরী বলেন, "ঘটনায় জড়িতরাই এসব প্রশ্ন তুলেছেন।" তিনি বিচারের দোষি প্রমাণিত অপরাদীদের সাজা দ্রুত কার্যকর করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/পিসি/পিডি/২২২৪ ঘ.

Thursday, April 22, 2010

বাংলাদেশের আদি সংবিধানের বৈশিষ্ট্য ও বিচ্যুতি-২

যুগের বাণীবাংলাদেশের আদি সংবিধানের বৈশিষ্ট্য ও বিচ্যুতি-২
মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী
প্রিয় পাঠক, এই শিরোনামে চারটি ধারাবাহিক লেখার ইচ্ছার দ্বিতীয়টি আজ দ্বিপ্রহরে শুরু করেছি। ১৯ মার্চ ছাপা প্রথমটিতে লিখেছিলাম, সংবিধান সব দেশেরই জনগণের আদরের ধন_বংশপরম্পরায় পবিত্র দলিল, যাকে ঘিরে তাদের সাধ-আহ্লাদ, আশা-আকাঙ্ক্ষা মূর্ত হয়।

আগের লেখাটিতে আদি সংবিধানের যে বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছিলাম, যেটা এক সামরিক স্বৈরশাসক কর্তৃক সংবিধান থেকে বিলুপ্ত করা হয়েছে, সেটা হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষতা। একটি জাতি গঠনে ধর্ম অপরিহার্য নয়। এ বক্তব্যের পক্ষে ঐতিহাসিক উদাহরণ হচ্ছে ইসলামের নবী কর্তৃক প্রণীত 'মদিনার সংবিধান', যার ২৫ অনুচ্ছেদে বলা ছিল, ইহুদি ও মুসলমানরা এক উম্মাহ বা জাতি। ইহুদিদের জন্য তাদের ধর্ম এবং মুসলমানদের জন্য তাদের ধর্ম। আজকের লেখাটিতে বাংলাদেশের সংবিধানের যে বৈশিষ্ট্য বিষয়ে আলোচনা করব, সেটা হচ্ছে 'গণতন্ত্র'। প্রিয় পাঠক, অনুমান করি আপনি ভাবছেন এটা এখন আলোচনার বিষয় নয়, কারণ একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সংসদ অধিবেশন নিয়মিত চলছে। সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে সংসদে তর্কবিতর্ক হচ্ছে। অতএব আমার আজকের লেখাটির বিষয়কে তেমন গুরুত্ব দেওয়া যায় না। কিন্তু এটা সঠিক নয়। কেন নয়, সেটা লিখছি।
আপনার উপরোক্ত যুক্তি বোধ করি এই ধারণা থেকে উপনীত যে গণতন্ত্রে একজন নাগরিকের সর্বশেষ সর্বোচ্চ অধিকার হচ্ছে জাতীয় সংসদে তাঁর এলাকার সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার। এই ধারণাটি সঠিক কি না, আসুন সেটা যাচাই করা যাক যুক্তিবিজ্ঞানের আরোহ ও অবরোহ পদ্ধতি অনুসরণে। আপনি একটি ফলের দোকানে, ধরা যাক, আপেল কিনতে গেলেন। দোকানি আপনাকে সবুজ রঙের এক কেজি আপেল দিলেন। বাসায় ফিরে একটি আপেলে কামড় দিতেই টক স্বাদ পেলেন। আরেকটিতে, তারপর আরেকটিতে কামড় দিতে একই টক স্বাদ পেলেন। পরদিন সবুজ নয়, হলুদ রঙের আপেল কিনলেন। এবার প্রতিটিতে পেলেন মিষ্টি স্বাদ। এ দুটি অভিজ্ঞতায় অর্থাৎ আরোহ পদ্ধতিতে পেয়ে গেলেন যে আপনার কেনা সবুজ ও হলুদ রঙের আপেলগুলো যথাক্রমে টক ও মিষ্টি। অতঃপর অবরোহী যুক্তিধারায় আপনি একটি সাধারণ সূত্র পেলেন : সব সবুজ রঙের আপেল টক আর হলুদ রঙের আপেল মিষ্টি হয়।
উপরোক্ত পদ্ধতিতে এখন সংসদীয় গণতন্ত্রকে বিবেচনা করা যাক। উদাহরণ হিসেবে সংবাদপত্রে ছাপা পুরনো দুটি প্রতিবেদন উল্লেখ করছি। সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি এলাকায় ২০০৪ সালে ওয়াপদার খালের ওপর একটি পাকা সেতুর কাজ শুরু হয়। সেতুটি এলাকার জনগণের যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। সেটি নির্মাণের জন্য ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়। তিনটি পিলার নির্মাণ এবং তিনটি স্লাবের একটি ঢালাই করা হয়। ঠিকাদার স্থানীয় লোক ছিলেন না। তিনি সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে আঁতাত করে বিলের টাকা তুলে নিয়ে উধাও হয়ে যান। অতঃপর এলাকাবাসী পাকা সেতুর বদলে একটা বাঁশের সেতু নির্মাণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে দীর্ঘকাল আবেদন করে ব্যর্থ হয়। ওয়াপদার এই খালে বছরের আট মাসই মাথা-উঁচু পানি থাকে। অথচ এ এলাকার ২৫টি গ্রামের ১০ হাজার লোককে প্রতিদিন খালটি পার হয়ে যাতায়াত করতে হয়। অবশেষে এ এলাকার জনগণ নিজেদের উদ্যোগে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণের উদ্দেশ্যে ১১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। কমিটির নেতৃত্বে এলাকাবাসীর কাছ থেকে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয় এবং স্বেচ্ছাশ্রমে সাত দিনে ২০০ ফুট দৈর্ঘ্যের বাঁশের সাঁকো নির্মিত হয়। এই সাঁকোর ওপর দিয়ে হেঁটে যাতায়াত করা ছাড়াও সাইকেল, মোটরসাইকেল ও রিকশা চলাচল করছে।
অন্য প্রতিবেদনটি এখন উল্লেখ করছি। কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীর বরাবর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঘেঁষা ছয়টি গ্রাম এবং সেখানে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ তিনফসলি উর্বর জমিতে চাষাবাদ করে আসছে। যখনকার কথা লিখছি, তখন ৩০০ মিটার পর্যন্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ প্রবল জলস্রোতে ভেঙে গিয়েছিল এবং সেটি মেরামত ও আরো উঁচু করার উদ্দেশ্যে একটি প্রকল্প তৈরি করে খরচ বাবদ ৯৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। অথচ ওই ৩০০ মিটার বাঁধ ভাঙার অজুহাতে ভাঙা অংশের উত্তর থেকে দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত অর্ধবৃত্তাকারে ৩ দশমিক ১২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বিকল্প বাঁধ নির্মাণের তোড়জোড় শুরু হয়েছিল। মূল বাঁধ নির্মাণ শেষ হলে বিকল্প বাঁধটি আপনা-আপনি অনাবশ্যক হয়ে যাবে। বিকল্প বাঁধ নির্মিত হলে ওই ছয়টি গ্রামের বাসিন্দারা ভিটেমাটি, চাষাবাদের জমি হারিয়ে বাস্তুহারা হবে। অথচ এটা নির্মাণের জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের কাছ থেকে দুই কোটি ৫০ লাখ টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় জনগণ আন্দোলন করে সেটার নির্মাণ বন্ধ করেছিল।
প্রিয় পাঠক, উপরোউক্ত প্রতিবেদন দুটি পাঠের অভিজ্ঞতায় অর্থাৎ আরোহ পদ্ধতিতে আপনি একটি সিদ্ধান্তে পেঁৗছেছেন যে রাষ্ট্রের কর্মচারীদের কাজ জনস্বার্থের তোয়াক্কা করে না। শুধু তা-ই নয়, কখনো জনগণকে বাধ্য হয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে সে কাজ করতে হয়, কিংবা কখনো জনগণকে সরকারি কাজটির বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হয়। অতঃপর অবরোহী যুক্তিধারায় একটি সাধারণ সূত্রে আপনাকে পেঁৗছতেই হবে এবং সেটি হচ্ছে, বাংলাদেশের সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে উচ্চারিত বাক্যটি 'জনগণ প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক' একটি বিমূর্ত ধারণা। এই সূত্রটি একপেশে। কারণ সূত্রটি তৈরি হয়েছে সরকারের কাজের ভিত্তি কী হবে এই পরোক্ষ বিবেচনায়, কিন্তু প্রতিবেদন দুটিতে সরকারের কাজের বিপরীতে জনগণের প্রতিক্রিয়ার বিবেচনায় একটি বিপরীত সূত্র পাওয়া যাচ্ছে যে প্রতিটি ব্যক্তি-মানুষের স্বাধীনতা উপভোগের ক্ষমতা আছে এবং তিনি নিজেই তাঁর ব্যক্তিগত চেষ্টায় সেটি পেতে পারেন। এর সঙ্গে সহজেই দাবি করা যায়, স্বাধীনতা মানুষের জন্মগত অধিকার।
টলস্টয় তাঁর লেখা 'এ গ্রেট ইন্ইকুইটি' (চরম অবিচার) প্রবন্ধে রূপকাশ্রিত একটি গল্প বলেছেন : 'একদল মানুষ একপাল গরুকে, যাদের দুধে তৈরি খাদ্যে তাদের জীবনোপায়, একটি বেষ্টনীর ভেতরে তাদের তাড়িয়ে নিয়েছে। বেষ্টনীর ভেতরের বিচালি গরুরা খেয়ে ও পায়ে মাড়িয়ে শেষ করেছে, তারা প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত হয়ে একে অপরের লেজ চিবিয়েছে, তারা হাম্বা হাম্বা করছে আর বেষ্টনীর বাইরে অদূরে চারণভূমিতে যাওয়ার জন্য ধস্তাধস্তি করছে। কিন্তু মানুষ, যারা ওই গরুদের দুধে বেঁচে আছে, বেষ্টনীর চারধারে পুদিনা, রঞ্জক ও তামাকের ক্ষেত করেছে; ফুলের আবাদ করেছে; ঘোড়দৌড়ের মাঠ, পার্ক, টেনিসের মাঠ তৈরি করেছে এবং তারা গরুগুলোকে বাইরে আসতে দিচ্ছে না, পাছে এগুলো নষ্ট হয়।
অন্যদিকে গরুগুলো চিৎকার করছে, কৃশকায় হচ্ছে। অবশেষে মানুষ ভয় পেল, তারা আর দুধ পাবে না। সে কারণে গরুদের অবস্থা উন্নয়নে তারা নানা পরিকল্পনা নিল। তারা চাঁদোয়ার ব্যবস্থা করল, ভেজা বুরুশ দিয়ে গা মালিশ করল এবং দুধ দোয়ানোর সময় বদলে দিল। বৃদ্ধ ও রুগ্ণদের দেখাশোনা ও চিকিৎসায় তারা গুরুত্ব দিল। তারা দুগ্ধ-দোহনের আধুনিক পদ্ধতি বের করল। তা ছাড়া অতিরিক্ত পুষ্টিকর ঘাসের বীজ বপন করল। তারা এগুলো ও আরো বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা করল, কিন্তু সরল কাজটি করল না_যেটা গুরু ও তাদের জন্যও অপরিহার্য_সেটা হচ্ছে, বেষ্টনীর বেড়াগুলো সরিয়ে ফেলা এবং গরুদের ইচ্ছামতো স্বাভাবিকভাবে চতুর্দিকের চারণভূমিকে ভোগ করতে দেওয়া।'
এই যে স্বাভাবিকভাবে জনগণকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ভোগ করতে দেওয়া, তারই নকশা পাওয়া যাবে বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৯ ও ৬০ অনুচ্ছেদ দুটিতে, যেগুলোর নির্গলিতার্থ এই : ৫৯ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্যসাধনকল্পে জাতীয় সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইনের দ্বারা অভিহিত ও নির্দিষ্ট-সংখ্যক জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত প্রশাসনিক ইউনিটগুলোর দায়িত্বে থাকবে_(ক) প্রশাসন ও সরকারি কর্মচারীদের কাজ, (খ) জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং (গ) উন্নয়ন সম্পর্কিত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন। ৬০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতিটি প্রশাসনিক ইউনিট বা স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা এই (ক) স্থানীয় প্রয়োজনে কর আরোপ (খ) বাজেট প্রস্তুতকরণ এবং (গ) নিজস্ব তহবিল রক্ষণাবেক্ষণ করা, যা জাতীয় সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইন দ্বারা ঠিক করা হবে। প্রিয় পাঠক, স্থানীয় সরকারের নকশাটি বাংলাদেশের সংবিধানের একটি বৈশিষ্ট্য এবং জাতীয় সংসদ কর্তৃক সেটি উপেক্ষিত হওয়াটাই বিচ্যুতি। জাতীয় সংসদ সেটা উপেক্ষা করার উদ্দেশ্যে এটা-ওটা আইন করছে, কিন্তু জনগণকে তাদের স্বাভাবিক সাংবিধানিক অধিকার ভোগ করতে দিচ্ছে না।
লেখক : অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি
আপিল বিভাগ, সুপ্রিমকোর্ট

বাংলাদেশের আদি সংবিধানের বৈশিষ্ট্য ও বিচ্যুতি-১

যুগের বাণীবাংলাদেশের আদি সংবিধানের বৈশিষ্ট্য ও বিচ্যুতি-১
মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী
বাংলাদেশের আদি সংবিধানের অষ্টম অনুচ্ছেদের এক দফাটি ছিল এই : 'জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা_এই নীতিসমূহ এবং তৎসহ এই নীতিসমূহ হইতে উদ্ভূত এই ভাগে বর্ণিত অন্য সকল নীতি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বলিয়া পরিগণিত হইবে।' উল্লেখ্য, এই অনুচ্ছেদটি সংবিধানের 'রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি' শিরোনামের দ্বিতীয় ভাগ-এ অন্তর্ভুক্ত প্রথম অনুচ্ছেদ। সংবিধান সব দেশেরই নাগরিকদের আদরের ধন_বংশপরম্পরায় পবিত্র দলিল, যাকে ঘিরে তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা সাধ-আহ্লাদ মূর্ত হয়। বিশেষ করে প্রথমে ইংরেজ ঔপনিবেশিক, অতঃপর পাকিস্তান ঔপনিবেশিক শাসনের মোকাবিলা করতে হয় বাংলাদেশের জনগণকে। ১৭৬০ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে জনগণ সতেরো বার বিদ্রোহ করে এবং ১৯৭১ সালে একই কারণে বাংলাদেশের জনগণকে একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করতে হয়। অতঃপর জনগণের বিজয় চূড়ান্ত লক্ষ্যে পেঁৗছে। এই বিদ্রোহ-যুদ্ধের সব কয়টিরই চরিত্র ছিল ধর্মনিরপেক্ষ এবং প্রত্যেকটির পেছনে ছিল কখনো প্রচ্ছন্ন কখনো প্রকাশ্য একটি নিজস্ব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা। অবশেষে আহমদ ছফার ভাষায়_'এ অঞ্চলের নির্যাতিত জনগোষ্ঠীর আশা-আকাঙ্ক্ষা ইতিহাসের নানা পর্যায়ে নানা ঘূর্ণিপথ পরিক্রমার মধ্যদিয়ে আমাদের সময়ে এসে একটি রাষ্ট্রসত্তার আকারে বিকশিত হয়েছে।'

ইতিপূর্বে এই পৃষ্ঠায় 'আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার অন্বেষণ' শিরোনামে আমার চারটি ধারাবাহিক লেখা ছাপা হয়েছে এবং অন্বেষণের ফলস্বরূপ যে চারটি সূত্র পাওয়া গেছে তার একটি হচ্ছে, বাংলাদেশের জনগণ বংশপরম্পরাক্রমে যে স্বপ্ন দেখেছে, যে সংগ্রাম করেছে তার আবহ সম্পূর্ণ ধর্মনিরপেক্ষ লোকায়ত ছিল। এ কারণে বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির একটি ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সংবিধানের ১২ অনুচ্ছেদ ছিল এই : 'ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা। ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি বাস্তবায়নের জন্য (ক) সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িকতা, (খ) রাষ্ট্র কর্তৃক কোনো ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা দান, (গ) রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের অপব্যবহার, (ঘ) কোনো বিশেষ ধর্ম পালনকারী ব্যক্তির প্রতি বৈষম্য বা তাঁহার ওপর নিপীড়ন বিলোপ করা হইবে।'
একটি দেশ বলতে কী বোঝায়? প্রশ্নটির সরল উত্তর হচ্ছে_দেশ একটি ভৌগোলিক বাস্তবতা। জাতি কী? এরও সরল উত্তর হচ্ছে, বহু কোটি লোক যারা বংশপরম্পরায় ওই ভৌগোলিক সীমানায় বাঁধা পড়েছে। তাই প্রতিটি মানুষ তার জন্মভূমিকে ভালোবাসে।
রাজনৈতিক ধারণা হিসেবে ধর্ম ও জাতীয়তাবাদ হাতে হাত মিলিয়ে চলতে কোনো অসুবিধা নেই। একটি উদাহরণ দেওয়া যাক। বাঙালি মুসলমান ও বাঙালি হিন্দু উভয়েই বাঙালি জাতি। মহরমের মিছিল কিংবা জন্মাষ্টমীর রথের মিছিল যেমন যথাক্রমে বাঙালি মুসলমান ও বাঙালি হিন্দুর উৎসব, আবার পয়লা বৈশাখে নববর্ষের মিছিল ও অনুষ্ঠান তাদের উভয়ের মিলিত উৎসব। এবার অন্য একটি উদাহরণ দেওয়া যাক। শবেবরাত উৎসবের দিনের বিকেল বেলা যখন একজন বাঙালি মুসলমান তাঁর প্রতিবেশী বাঙালি হিন্দুকে এক বাটি হালুয়া দেন, তখন প্রতিবেশী সেটা হাসিমুখে নেন। আবার বিজয়া দশমীর সকালবেলা যখন একজন বাঙালি হিন্দু তাঁর প্রতিবেশী বাঙালি মুসলমানকে এক থালা সন্দেশ দেন, তখন প্রতিবেশী সেটা হাসিমুখে নেন। অর্থাৎ স্বতন্ত্র উৎসবে পরস্পরের যেমন সহনশীলতার, তেমনি যৌথ উৎসবে পরস্পরের ভালোবাসার কমতি ঘটে না।
মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে ওই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ থাকার কারণ হচ্ছে মুসলমানরা একটি স্বতন্ত্র জাতি বা গোষ্ঠী বা Race নন। ১৯৩৮ সালে 'মুত্তাহিদা কওমিয়াত আউর ইসলাম' (সম্মিলিত জাতীয়তা এবং ইসলাম) শিরোনামে উর্দু ভাষায় প্রকাশিত একটি পুস্তিকায় দেওবন্দ মাদ্রাসার প্রধান মাওলানা হুসেন আহমদ মাদানী লিখেছিলেন, 'একটি জাতি গঠনে ধর্ম অপরিহার্য উপাদান নয়। কারণ কোরআনের সব জায়গায় মুসলমানদের একই মিল্লাতের অন্তর্ভুক্ত বলা হয়েছে, কখনো একই কওমের অন্তর্ভুক্ত বলা হয়নি। আরবি ভাষায়, বিশেষ করে কোরআনে মিল্লাত শব্দটি আইন ও ধর্ম অর্থে এবং কওম শব্দটি জাতি অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। শব্দ দুটির মধ্যে রয়েছে ব্যাপক ব্যবধান। জাতিকে যদি তুলনা করা যায় জমিনের সঙ্গে, তাহলে মিল্লাত হচ্ছে আসমানের মতো।' এই নীতির কারণে ইসলামের নবী মদিনায় যে রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠা করেন তার চরিত্র ছিল সেক্যুলার বা লোকায়ত। মদিনার সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদে বলা ছিল, ইহুদি ও মুসলমানরা এক উম্মাহ বা জাতি। ইহুদিদের জন্য তাদের ধর্ম এবং মুসলমানদের জন্য তাদের ধর্ম।
ওই নীতির কারণে বাংলাদেশের সংবিধানে সংগঠনের স্বাধীনতা_এই মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া ৩৮ অনুচ্ছেদটি শর্তযুক্ত ছিল, যার উদ্ধৃতি এই : '৩৮ জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে সমিতি বা সংঘ গঠন করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে: তবে শর্ত থাকে যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সম্পন্ন বা লক্ষ্যানুসারী কোনো সাম্প্রদায়িক সমিতি বা সংঘ কিংবা অনুরূপ উদ্দেশ্য সম্পন্ন বা লক্ষ্যানুসারী ধর্মীয় নামযুক্ত বা ধর্মভিত্তিক অন্য কোনো সমিতি বা সংঘ গঠন করিবার বা তাহার সদস্য হইবার বা অন্য কোনো প্রকারে তাহার তৎপরতায় অংশগ্রহণ করিবার অধিকার কোনো ব্যক্তির থাকিবে না।'
প্রিয় পাঠক-পাঠিকা, বাংলাদেশের জনসাধারণের আশা-আকাঙ্ক্ষায় যে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের ছবিটি বংশপরম্পরায় দৃঢ় ও অম্লান ছিল এবং যা বাস্তবায়িত হয়েছিল, বাংলাদেশের সংবিধানের উপরোক্ত অনুচ্ছেদগুলোতে সেগুলোর পক্ষে ধর্মীয় ও সামাজিক যুক্তিগুলো দেওয়া গেল। রমেশচন্দ্র মজুমদারের লেখা 'বাংলাদেশের ইতিহাস' বইটির চতুর্থ খণ্ড থেকে উদ্ধৃতি দেওয়া যাক : 'ইংরেজদের ওপর চাপ দিয়া যাহাতে তুরস্কের খলিফার শক্তি ও সাম্রাজ্য ফিরাইয়া আনা যায় এই উদ্দেশ্যে ভারতীয় মুসলমানেরা একটি কমিটি গঠন করে। তাহাদের এই আন্দোলন 'খিলাফৎ আন্দোলন' নামে পরিচিত। গান্ধীর সাহায্যে ও সমর্থনে এই আন্দোলন প্রবল হইয়া উঠিল। ... কিন্তু গান্ধী জাতীয়তাবাদের মূল সূত্রটি ভুলিয়া গিয়াছিলেন। কোনো দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ঐক্যে একটি জাতি গঠন করিতে হইলে তাহার সর্বপ্রথম উপাদান এই যে, এই বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে একটির সহিত অপরের যে সম্বন্ধ, দেশের বহির্ভূত অপর কোনো গোষ্ঠীর সঙ্গে একটিরও তদনুরূপ বা অধিকতর ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধের বন্ধন থাকিবে না। যদি থাকে, তবে তাহারা এক জাতির অন্তর্ভুক্ত হইতে পারে না।' উল্লেখ্য, পরবর্তী সময়ে গণপ্রজাতন্ত্রী ধর্মনিরপেক্ষ তুরস্কের জাতীয় সংসদ খলিফার পদ বিলুপ্ত করে যে আইনটি প্রণয়ন করে তাতে বলা হয়, 'খেলাফতের দপ্তর বিলুপ্ত হয়েছে যেহেতু খেলাফত অপরিহার্যভাবে সরকার ও প্রজাতন্ত্রের উদ্দেশ্য ও ধারণার মধ্যেই আছে।'
প্রিয় পাঠক-পাঠিকা, এখন ১৯৭৮ সালে একজন সামরিক প্রশাসক কর্তৃক বাংলাদেশের সংবিধানের বিচ্যুতি-অপকর্মগুলো উল্লেখ করব এবং আপনাকেই লক্ষ করতে হবে কী কায়দায় পদে পদে সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র নাশ করা হয়েছে এবং তার মূল স্তম্ভ ধর্মনিরপেক্ষতাকে উপড়ে ফেলা হয়েছে। সংবিধানের শুরুতে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রহিম' শব্দগুলো যোগ করা হয় এবং আট অনুচ্ছেদের এক মূল দফাটি বদলে লেখা হয় : '৮। (১) সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস... রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বলিয়া পরিগণিত হইবে। ১(ক) সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসই হইবে যাবতীয় কার্যাবলির ভিত্তি।' একই সঙ্গে ওপরে উদ্ধৃত সংবিধানের ১২ অনুচ্ছেদটি এবং ৩৮ অনুচ্ছেদের শর্ত দফাটি বিলুপ্ত করা হয়। এখানে অপকর্ম শেষ হয় না। 'আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন' পার্শ্ব-শিরোনামযুক্ত ২৫ অনুচ্ছেদের মূল অংশকে এক দফা করে নতুন দুই দফা যোগ করা হয়, সেটা এই : (২) রাষ্ট্র 'ইসলামী সংহতির ভিত্তিতে মুসলিম দেশসমূহের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক সংহত, সংরক্ষণ এবং জোরদার করিতে সচেষ্ট হইবেন।' এই দুই দফাটির সংযোজনও বাংলাদেশ রাষ্ট্রটির ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র বদল করার আর একটি সূক্ষ্ম কৌশল, নতুবা ২৫ অনুচ্ছেদের মূল অংশটি 'আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন' রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে যথেষ্ট ছিল।
লেখক : অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি
আপিল বিভাগ, সুপ্রিম কোর্ট

মঙ্গল-অমঙ্গলের পূর্বাভাস

মঙ্গল-অমঙ্গলের পূর্বাভাস
মামুনুর রশীদ
৯৭১ সালের মার্চ মাসের গোড়া থেকেই ঢাকা শহরে কুকুরের কান্না শোনা যেত। এই কান্না ক্রমাগত বাড়তে থাকে। তীব্র আকার ধারণ করে মার্চের ২০ তারিখের পর। কুকুরের কান্না শুনতে শুনতে গা ছমছম করা এক রাতে আমরা তিন বন্ধু যাচ্ছিলাম গুলিস্তানের কেন্দ্রীয় টেলিগ্রাফ অফিসের পাশ দিয়ে। মার্চের ১০ কি ১১ তারিখ। ইপিআর বাহিনীর একজন সিপাই আমাদের ডাকলেন। তাঁর কণ্ঠে উদ্বেগ_ 'শেখ সাহেবকে একটা খবর দেবেন ভাই? আমাগো হাতিয়ার কিন্তু ক্লোজ করা শুরু করছে। একটা কিছু তলে তলে, ভেতরে ভেতরে শুরু হইছে।' তাঁর কণ্ঠস্বরের সঙ্গে সঙ্গে কুকুরের কান্না মিলে কী রকম একটা ভয়ার্ত পরিবেশ শুরু হয়েছিল।

২৫ মার্চ সন্ধ্যার পর চারদিকে ব্যারিকেড নির্মাণ শুরু হলো। জানলাম, ইয়াহিয়া-ভুট্টো চলে গেছে পাকিস্তানে। একটা কিছু আসন্ন; কিন্তু কোনো ধরনের রাজনৈতিক যুক্তি বা কারণ খুঁজে পাচ্ছিলাম না আমরা। কী হতে পারে? এর আগে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা গ্রহণ আমরা দেখেছি। সে তো শুধু ছাউনি থেকে সেনারা ঝাঁকে ঝাঁকে বেরিয়ে আসে। তারপর কিছু মার্শাল ল শাসক তৈরি হয়, কিছু দ্রুত আদালত হয়। কালো আইন দেশের মানবাধিকার কেড়ে নেয়। পাকিস্তানের রাজনৈতিক সংস্কৃতিই এটা। এখনো সেই ব্যবস্থা ওই দেশে জারি আছে। এ দেশেও ১৯৭৫ সালের মধ্য আগস্টের পর তা-ই হয়েছে।
রাত নামছে। ওই রকমই আশঙ্কা আমাদের। কিন্তু সব পূর্বাভাসকে ম্লান করে দিয়ে ক্যান্টনমেন্ট থেকে বেরিয়ে এল ট্যাংক, সাঁজোয়া বাহিনী। বাতাসে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল বারুদের ঘ্রাণ। এক সভ্যতাবিধ্বংসী কাণ্ড শুরু হয়ে গেল। সূচনায়ই তারা কয়েক হাজার নিরীহ মানুষকে হত্যা করে ফেলল, যারা ছিল বাজারে, পথে, স্টেশনে, পেট্রল পাম্পে, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে, টেলিফোন এক্সচেঞ্জে। টেলিফোন কাজ করছে না। সমগ্র যোগাযোগব্যবস্থা সেনাবাহিনীর হাতে। আমরা পাল্টা গোলাগুলি শুনলাম পিলখানা আর রাজারবাগে। কে কোথায় আছে, জানার কোনো উপায় নেই। ওই রাতে আমি আটকা পড়ে গেলাম সামাদ ভাইয়ের বাসায়। তখন চিত্রগ্রাহক সামাদ ভাই চিত্র পরিচালক হতে চলেছেন। তাঁর প্রথম ছবি 'সূর্য গ্রহণ'-এর চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখছি। মাঝেমধ্যেই ওখানে থেকে যাই। সামাদ ভাইয়ের স্ত্রী রোজী ভাবি তখন নাম করা নায়িকা। তাঁকে নিয়েও আমরা উদ্বিগ্ন। কারণ, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর খাসলত আমরা জানি। বাসাটা একেবারেই গ্রিন রোডের ওপরে। বারান্দায় যাওয়ার উপায় নেই। বারান্দার সামনেই নিচু একটা দেয়াল। ট্যাংক ও সাঁজোয়া গাড়ি তখন ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে। ঢাকায় প্রবেশপথ তখন তিনটি_ ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার দিয়ে একটি, গ্রিন রোড দিয়ে একটি, অন্যটি মিরপুর রোড দিয়ে। তাই পিলখানা ও বিশ্ববিদ্যালয় আক্রমণের পথ এটাই। আজকের দিনে অবশ্য সেই রাতের আক্রমণের নীলনকশা অনেকেই জানেন।
এরই মধ্যে রেডিওতে নরখাদক ইয়াহিয়া খানের বেতার ভাষণে আওয়ামী লীগ এবং শেখ সাহেবকে দোষারোপ করে হুঙ্কার ছাড়া হলো। স্পষ্টতই এক রক্তপায়ী দস্যুর গোঙানি শুনতে পেলাম আমরা। আজ এত বছর পর শুধু মনে আছে, একজন মদ্যপানরত জেনারেল রক্তের লালসায় কী যেন প্রলাপ বকে যাচ্ছে। তখন বার বার ৭ মার্চের শেখ সাহেবের বজ্রকণ্ঠ শুনে বাঁচার প্রেরণা পাচ্ছিলাম।
আমরা এমনিতেই প্রতি রাতে একটু বিলম্বে খেতাম। সেই রাতে আর খাওয়ার প্রশ্নই নেই। কোনো একটা জানালার ফাঁক দিয়ে বাইরে তাকাতেই শুধু দেখতে পাচ্ছিলাম আগুন আর ধোঁয়া। বাড়িটা বার বার কামানের গোলায় কেঁপে কেঁপে উঠছিল। রোজী ভাবিকে পেছনের দেয়ালের পাশে একটা ঘরে রাখা হলো, যাতে সেনাবাহিনী ঢুকলে পেছনের দেয়াল টপকে দ্রুত অন্য বাড়িতে পার করে দেওয়া যায়। মেয়ে কবিতা তেমন কিছু বুঝতে না পারলেও বার বার কেঁদে উঠছিল। আমরা প্রাণপণে ওকে থামানোর চেষ্টা করছিলাম। পুরান ঢাকার আত্দীয়-স্বজনের খোঁজ-খবর নেওয়ার কোনো উপায় নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের বন্ধুদের কী হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কী হলো, টাঙ্গাইল শহরে আমার বাবা-মা, ভাইবোনের কী হলো_ এসব ভাবতেও পারছিলাম না। কামানের গুলিতে সব ভাবনা ছিন্ন হয়ে যাচ্ছিল। ১ মার্চ থেকে টেলিভিশনের ঢাকা স্টেশন একেবারেই পাল্টে গিয়েছিল। সেই সময় ১ মার্চ আমার লেখা একটি নাটকও প্রচারিত হয়েছিল। নাটকটি বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। সেনাবাহিনীর রক্তচক্ষু তো আমাকেও খুঁজবে। এমনি করেই সারা রাত না খেয়ে, না ঘুমিয়ে কাটাচ্ছি। আবার কুকুরের কান্না। এসব কুকুরের কান্নার মাঝে এক মহিলার বিলাপ শুনলাম। অনুমান করলাম, বস্তি পুড়িয়ে দেওয়ার পর নিশ্চয়ই ওর সব আপনজন হত্যা করেছে সেনাবাহিনী।
সকালের আজান শোনা গেল। ঠিক আজানের শব্দের সঙ্গে সঙ্গে ইসলামের রক্ষক সেনাবাহিনীর কামানও গর্জে উঠল।
প্রাকৃতিক নিয়মে ভোর হলো। কিন্তু কারো ক্ষুধা নেই। বিনিদ্র রাতের ক্লান্তিও নেই। সামান্য চা-বিস্কুট জুটল। সেই সঙ্গে আবারও চলছে গোলাগুলি। কোনো যোগাযোগ নেই, শুধুই অনুমান। অনুমান করলাম, পিলখানা আর রাজারবাগের এখনো পতন হয়নি। মাইকে ভয়ঙ্কর সব উর্দুতে এলান শোনা যাচ্ছে। 'ঘর ছে বাহার আও তো গুলি মার দুঙ্গা' ইত্যাদি।
প্রতিটি গৃহ আলাদা আলাদা দ্বীপ। কারো সঙ্গে কারো কোনো যোগাযোগ নেই। সব কল্পনা-অনুমান, সবই শুধু পরিবারের মধ্যে।
ইতিহাসে নাদির শাহের দিলি্ল লুণ্ঠনের কাহিনী পড়েছি। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় নাৎসি বাহিনীর শহর পতন ঘটানোর কাহিনী পড়েছি। এগুলো ইতিহাসের পাঠ। কিন্তু যে ঘটনার মুখোমুখি আমরা ওই রাতে, তা আমাদের বুকের ওপর ঘটেছে।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একটু গা ঝাড়া দিয়ে উঠলাম। হৃদয়ের মতো মারাত্দক আগ্নেয়াস্ত্রটি তখন জেগে উঠতে শুরু করেছে। বিড়বিড় করে উচ্চারণ করলাম_ 'আর নয়, প্রতিশোধ নেব।' যুদ্ধের অনিবার্য পূর্বাভাস দেহের রক্তে বইতে শুরু করেছে।
লেখক: সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বভ

সংবাদ ভাষ্য গোলাম আযম তার কাজ করছেন সরকার কি তার কাজ করছে?

সংবাদ ভাষ্য গোলাম আযম তার কাজ করছেন সরকার কি তার কাজ করছে?
সরকার ট্রাইব্যুনাল গঠন করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেছে, এটি একটি সাহসী পদক্ষেপ এবং সে কারণে অবশ্যই সরকার অভিনন্দনযোগ্য। কিন্তু, তারপরও প্রশ্ন আছে এবং এ প্রশ্নগুলো বিভিন্নভাবে মিডিয়ায় এসেছে। এর মূল কথা হলো সরকার কতটা প্রস্তুত?
এই সংবাদটি দৈনিক জনকণ্ঠ ছাড়া কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়নি। খবরটির শিরোনাম 'হঠাৎ আসরে গোলাম আযম' [৭.৪.১০]। খবরের সারমর্ম এই যে গত সপ্তাহে শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী হিসেবে অনুমিতরা গোপনে একটি বৈঠক করে গোলাম আযমকে নিয়ে। যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতে ইসলামের ২৪ জন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। আর ছিলেন, বিএনপির মওদুদ আহমেদ। অবশ্য, তাকে বৈঠকে না ডাকলেও চলত। সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেই হতো। বিএনপি জামায়াতের নির্দেশ অমান্য করবে না, করার সাহস বা সাধ্য কোনটিই নেই। পরে, একটি প্রতিনিধিদল বেগম জিয়ার সঙ্গেও সাক্ষাত করে। মওদুদ আহমদের উপস্থিতি ও তারপর বেগম জিয়াকে বৈঠকের ফলাফল জানানো দু'টি দিক তুলে ধরে। মওদুদ কোথাও থাকা মানে বিপর্যয় ঘটে যাওয়া বা ঘটানো। মূর্তিমান 'ইভিলে'র প্রতীক এই ব্যারিস্টার। অন্যদিকে, এটিও প্রমাণিত হলো, জামায়াতের মতো বিএনপিও ১৯৭১ সালের অপরাধসমূহের বিচারের বিরোধী। অর্থাৎ তাদের অবস্থান


সাধারণ মানুষের বিপক্ষে, পাকিস্তানীমনাদের পক্ষে। বিএনপিও রাজাকারদের দোসারদের দল হয়ে গেল! শুনেছি, বাচ্চা জামায়াতীরা এখন জামায়াতকে যুদ্ধাপরাধীদের দল বলা পছন্দ করছে না। তেমনি বাচ্চা বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদীরাও রাজাকার দোসর দল হিসেবে নিজেদের পছন্দ করছে না। কিন্তু তখন আর উপায় থাকবে না।
গোলাম আযমদের বৈঠকের মূল এজেন্ডা ছিল যুদ্ধাপরাধের বিচার ঠেকানো। চারটি কৌশলের বিষয়ে তারা একমত হয়েছে।
১. কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে বিচার ঠেকানো।
২. 'সরকারের বিভিন্ন দুর্বল দিকগুলি চিহ্নিত করা এবং সে অনুযায়ী সরকারকে ঘায়েল করা। এক্ষেত্রে রাজধানীতে পানি, বিদ্যুত ও গ্যাসকে প্রাধান্য দেয়া।'
৩. আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য দেশ-বিদেশ থেকে আইনবিদ যোগাড় করে প্যানেল গঠন করা
৪. এর কোনটিতে কাজ "না হলে সারাদেশে ধ্বংসাত্মক কর্মকা- চালিয়ে সরকারকে এবং পুরো দেশকে একটি অরাজক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়ে বিদেশী শক্তিকে বাংলাদেশে আসার সুযোগ করে দেয়ার বিষয়টি প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।"
গোলাম আযমরা যা করছে তা খুবই স্বাভাবিক। গত তিন দশকে এই প্রথম একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে তারা বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে। তারা কখনই ভাবেনি ১৯৭১ সালের অপরাধের জন্য তাদের বিচারের সম্মুখীন হতে হবে। এখন দেখা যাচ্ছে, বিচারের সম্মুখীন হয়ত হতে হবে। এই 'হয়ত' যত সত্য হয়ে দাঁড়াচ্ছে ততই জামায়াতের নেতারা শঙ্কিত হয়ে উঠছে। আমি এখানে 'অস্তিত্বের সঙ্কট' শব্দ দুটি ব্যবহার করিনি। যুদ্ধাপরাধের বিচার হলে জামায়াতের প্রথম সারির সব নেতাদের বিচারের সম্মুখীন হতে হবে। যুদ্ধাপরাধী ও খুনীদের দল হিসেবে এটি পরিচিত হয়ে উঠবে। এবং চিরতরে তাদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস হয়ে যাবে। দল বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে। কিন্তু, নতুন জামায়াতীরা থাকবে, দলের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে না সত্যি কিন্তু বর্তমান রাজনীতিতে তাদের দরকষাকষির যে সুযোগ তারা এত দিন পেয়ে আসছিল তা থাকবে না। সুতরাং এই বিপর্যয় এড়াবার জন্য তারা যা যা দরকার তা করবে।
জামায়াতের ফ্রন্ট হিসেবে বিএনপিও নাজুক অবস্থায় পড়বে। বেগম জিয়া যতই আন্দোলনের হুমকি দেন না কেন বিচার শুরু হলে, যুদ্ধাপরাধীদের দায় বিএনপিকেও সামলাতে হবে কারণ বিএনপির বর্তমান নেতৃত্ব এই দায় নিজের কাঁধে নিয়েছে। বিভিন্ন কারণে যারা আওয়ামী লীগ বিরোধী এবং বিএনপির সমর্থক তারা এই দায় নিতে নারাজ। সুতরাং সরকারবিরোধী আন্দোলন ঠিক এই মুহূর্তে কতটা জোরদার হবে তাতে সন্দেহ আছে। জামায়াত-বিএনপি তাদের কৌশল নির্ধারণ করেছে, এখন তারা তা কার্যকর করবে। কিন্তু, এর বিপরীতে সরকারের অবস্থান কি? বল এখন সরকারের কোর্টে। আমরা অনেকে ভেবেছিলাম যুদ্ধাপরাধের বিচারের কথা বললেও সরকার তাতে অগ্রসর হবে না। কিন্তু, সরকার ট্রাইব্যুনাল গঠন করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেছে, এটি একটি সাহসী পদক্ষেপ এবং সে কারণে অবশ্যই সরকার অভিনন্দনযোগ্য। কিন্তু, তারপরও প্রশ্ন আছে এবং এ প্রশ্নগুলো বিভিন্নভাবে মিডিয়ায় এসেছে। এর মূল কথা হলো সরকার কতটা প্রস্তুত?
প্রথম কথা হলো, ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্নে জামায়াতীরা আদালতে যেতে পারে। সাংবিধানিক প্রশ্ন তুলবে। সেগুলো কুযুক্তি কী সুযুক্তি তার মধ্যে যাব না। কিন্তু, সাংবিধানিক প্রশ্নে কোন ফাঁকফোকর আছে কি-না তা কি সরকার ভালভাবে খতিয়ে দেখেছে?
দ্বিতীয়, অনেকের মনে হচ্ছে, এ বিচার সুচারুভাবে সম্পন্ন ও জামায়াত-বিএনপি কৌশল অকার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো নিয়ে সমন্বিত কোন কার্যক্রম নেয়া হয়নি। কারণ, সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট হচ্ছে এবং এই সমন্বয়হীনতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে। তদনত্দ কমিটিও প্রসিকিউশন নিয়ে নানা খবর বেরুচ্ছে। অনেকের ধারণা, সরকারের অনেকের ধারণা, মানবতাবিরোধী অপরাধ বোধহয় এক ধরনের ফৌজদারি মামলা। সরকার কি সম্পূর্ণভাবে এই ধারণা থেকে মুক্ত?
তৃতীয়, এই বিচার নস্যাতের জন্য জামায়াত বিএনপি ব্যাপক প্রচার করছে। বিচারের পক্ষে আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করছি। কিন্তু দল ও সরকার হিসেবে বিচারের পক্ষে সরকারের যে প্রবলভাবে নামা উচিত ছিল তা কিন্তু পরিলক্ষিত হচ্ছে না। কেন এই আড়ষ্টতা এর উত্তর কেউ খুঁজে পাচ্ছেন না।
জামায়াত-বিএনপির কর্মকৌশল আলোচনা করা যাক। কূটনৈতিক তৎপরতা জামায়াতীরা যে দীর্ঘদিন ধরে চালাচ্ছে এটা নতুন কোন কথা নয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাংগঠনিকভাবে সে তৎপরতা চালাচ্ছে বলে আমাদের জানা নেই। অন্তত দু' একটি দেশে বাংলাদেশের কূটনীতিকদের এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করে কোন সদুত্তর পাইনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতা বিবৃতিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে মন্তব্য করেছেন কিন্তু সেটিই কি যথেষ্ট? জামায়াত-বিএনপি সৌদি আরব এবং পাকিস্তানকে দিয়ে চাপ সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। কিন্তু দু'টি দেশই স্পষ্টভাষায় জানিয়ে দিয়েছে এটি বাংলাদেশের ব্যাপার। এ দিকটায় মার খেয়েই জামায়াত খানিকটা বিচলিত। যুদ্ধ শুরু হলে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন, ব্যক্তি, রাষ্ট্র নানা বিষয়ে জানতে চাইবে। আমরা নিশ্চিত সরকার সে বিষয়ে যথেষ্ট প্রস্তুত নয়।
সরকারের সব দিক সবল নয়_এটি সরকার না বুঝলেও আমরা বুঝি। আমলাতন্ত্র যে কাজ করছে না বা কাজ করানো যাচ্ছে না এটি মন্ত্রীরা না বুঝলেও আমরা বুঝি। গতানুগতিক একটি সরকার হয়েছে। মন্ত্রীরা এমন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন নয় বা এমন দক্ষ নয় যে, সরকারের নীতি তারা কার্যকর করতে চাইলেই পারবেন। পানি, বিদ্যুত, গ্যাস সমস্যায় সরকার বিপর্যসত্দ_এটি আমরা জানি। কিন্তু সমন্বিতভাবে সরকারের প্রতিটি মন্ত্রী, দলের নেতারা কি তুলে ধরেছেন যে, পানির জন্য ২০০১-৮= সাত বছরে শোধনাগার হয়নি, বিদ্যুতের খাম্বা ছাড়া কিছুই লাগানো হয়নি এবং গ্যাস নেই, তারপরও এই নেই গ্যাসটুকু নিজামী খালেদা টাটাকে দিয়ে দিতে চেয়েছিল ভারতীয় পুঁজিপতিদের কাছে নতজানু হয়ে। না, প্রধানমন্ত্রী ছাড়া কেউ সোচ্চার নন। গত আমলেও একই ব্যাপার ঘটেছে, অতি-কেন্দ্রিকরণ ও ভয় থেকেই বোধহয় সবাই চুপ থাকেন। প্রধানমন্ত্রী যদি এখন বলেন, যে এসব বিষয় যত সোচ্চারভাবে তুলে ধরবে, মন্ত্রিত্বের দিকে সে তত এগুবে এবং যে যত কম বলবে সে মন্ত্রিত্ব হারাবে, তা হলে হয়ত তা কোরামিনের কাজ করবে। তবে, নিজামী-খালেদা কিছু করেনি এটি জনমনের ক্ষোভ নিরসনে যথেষ্ট নয়। নিজামী-খালেদা অকর্মণ্য, লোভী দেখেই তো শেখ হাসিনাকে ভোট দেয়া হয়েছে। সরকার এই সঙ্কট নিরসনে কী করছে তাও তুলে ধরতে হবে।
জামায়াত-বিএনপি আইনী লড়াইয়ের কথা ভাবছে। তারা হাজার হাজার আইনবিদ নিয়োগ করবে বলে জানিয়েছে। সেটি বাগাড়ম্বর। বাংলাদেশে জামায়াত করে এমন আইনজীবী হাজারও নেই। কিন্তু ইসলামী ব্যাংক, ইবনে সিনা ও মধ্যপ্রাচ্যের টাকায় অনেক আইনজীবী হয়ত আসবে। আমাদের সরকার সে ক্ষেত্রে কী করছে? এক্ষেত্রে চিত্রটি খুবই হতাশাব্যঞ্জক। কাগজে যা দেখেছি ও যা শুনেছি তাতে অনুমান করছি, আইন প্রতিমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুরনো রাজনৈতিক সহকর্মী হিসেবে একদিকে, আইনমন্ত্রী আরেক দিকে। প্রথমোক্তদের ধারণা, এ বিচার ফৌজদারি বিচারতুল্য সুতরাং নিম্ন আদালতের উকিলরাই যথেষ্ট। দ্বিতীয় পৰের ধারণা, এটি বিশেষ বিচার, বিশেষ আইনজীবী দরকার কিন্তু তার জন্য আনুষঙ্গিক কী কী উপাদান সে সব বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা আছে কী না সন্দেহ। প্রথমদিকে, আদালতের জায়গা নির্বাচন থেকেই তা স্পষ্ট। অবকাঠামোগত সুবিধাও প্রসিকিউটর, তদন্ত সংস্থা পায়নি। যারা দীর্ঘদিন এই আন্দোলন করেছেন তাদের নিয়ে বসে কী ধরনের সাহায্য সহযোগিতা পাওয়া যায়। তা নিয়েও সমন্বিত আলোচনা হয়নি। কেন যেন মনে হয় আমরা যতটা স্বতঃস্ফূর্ত সরকার এতটাই গা-ছাড়া।
জামায়াত-বিএনপির শেষ কৌশল ধ্বংসাত্মক ও নাশকতামূলক কাজ করা। এ বিষয়ে আমাদের কিছু বলার নেই। বলার আছে এটুকু যে, এ দু'টি দল সবসময় ধ্বংসাত্মক কাজেই পারদর্শী, অভ্যস্ত। দেশ থেকে তাদের কাছে দল বড়, দল থেকে ব্যক্তি বড়। এদের ব্যারিস্টার, নেতা, জাঁদরেল নেতারা যেভাবে তারেক বন্দনা করেন তাতে লজ্জা হয়। তাদের অনেকের থেকে তো বটেই তাদের সনত্দানদের থেকেও হয়ত তারেক শিক্ষিত নয়, কোন গুণের কথাও শোনা যায়নি, অর্থ যোগাড় করা ছাড়া তাও তার মা প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বলে। সরকার জানিয়েছে, তারা নিরাপত্তা জোরদার করছে। কিন্তু ১৬ কোটির দেশে সাধারণ মানুষকে উজ্জীবিত করতে পারলেই নিরাপত্তা আসবে। অন্যথায় নয়।
দক্ষিণ এশিয়ায় এই প্রথম একটি যুগান্তকারী ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। এর ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। দক্ষিণ এশিয়ার জঙ্গিবাদ নির্মূল, সাম্প্রদায়িক রাজনীতি প্রভাবহীন করা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য দক্ষিণ এশীয় ইউনিয়ন গড়ে তোলা, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো দৃঢ়করণ ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে যারা বিশ্বাসী তাদের অস্তিত্ব রক্ষা_সবকিছু এই বিচারের ওপর নির্ভর করছে। নিছক ওয়াদা পূরণ ও জনচাপে কাজ করা এবং বিশ্বাস করে একবারের জন্য বিষয়টি মীমাংসা করা_এ দু'টির মধ্যে তফাৎ আছে। সরকার বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা সত্ত্বেও প্রথম ধারণাটাই জনমনে এখনও রয়ে যাচ্ছে। এ বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার দাবি আমাদের অনেক দিনের, এ ক্ষেত্রে আমরা সরকারের সহযোগী কিন্তু আমরা চাই না সরকারের কর্মকণ্ডে দ্বিতীয় বিষয়টি যেন পরিস্ফুট হয়ে ওঠে। এ ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থ হওয়ার কোন অবকাশ নেই। ব্যর্থ হলে সরকার পতন অবশ্যম্ভাবী শুধু নয়, বিরাটসংখ্যক মানুষকে দেশত্যাগ করতে হবে এবং আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর যে আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করছে বলে প্রায়ই দাবি করে তা চিরতরের জন্য বিলুপ্ত হবে।

লালমোহনে আওয়ামী লীগের শোডাউনে জনতার ঢল

লালমোহনে আওয়ামী লীগের শোডাউনে জনতার ঢল
বিশেষ প্রতিনিধি/নিজস্ব সংবাদদাতা, লালমোহন ॥ আবার নামল ঢল মানুষের, আবার নামল বান। ঠিক যেন বাঁধভাঙ্গা স্রোত। লালমোহন বাজারের কেন্দ্রস্থলে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের শেষ নির্বাচনী জনসভায় চতুর্দিকে থেকে বিকেল থেকে সন্ধ্যা অবধি মিছিলে মিছিলে সয়লাব হয়ে যায় লালমোহনের সদর। আৰরিক অর্থেই তিলধারণের ঠাঁই নেই, ঠিক যেন 'ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই, ছোট সে তরী।' কপালে-কব্জিতে লাল সালু বেঁধে, হাতে পস্ন্যাকার্ড নিয়ে, মাইকের সেস্নাগানে নৃত্যের তালে চরাঞ্চল থেকে প্রত্যন্ত জনপদ থেকে আসা জনতার স্রোত বক্তার শব্দে-বাক্যে আলাদা গতি সঞ্চার করেছে। বয়োজ্যেষ্ঠ মুরবি্ব, মধ্যবয়সী যুবক, কৃষক-কৃষাণীর কণ্ঠে ছিল 'হাফিজের ২৫ বছরের দুঃশাসন থেকে মুক্তি চাই।' জনসভার সামনে দাঁড়িয়ে যখন রিপোর্ট লিখছি তখন বিস্মিলস্নাহ ট্রেডার্সের সামনে দাঁড়িয়ে যুবক ইব্রাহিম বলে, 'বিকেলে দেখলাম খালি, এখন এত লোক এলো কোথা থেকে?' বিস্মিলস্নাহ ট্রেডার্সের মালিক নুরম্নন্নবী জনকণ্ঠকে বলেন, 'লালমোহনে এত বড় জনসভা কোন দিন হয়নি। লোকসমাগম দেখে আয়োজকরা অবাক-উলস্নসিত। শাওনের বিজয় নিয়ে তাঁরা দারম্নণ আশাবাদী। জনস্রোত দেখে লালমোহন বাজারের দোকানিরা হতবাক। তাঁরা বলছেন, 'শাওনের বিজয় সুনিশ্চিত। জনসভায় মতানত্মরে অর্ধলৰাধিক থেকে লৰাধিক জনসমাগমের কথা বিভিন্ন মহল আলোচনা করেছে। জনসভায় হাফিজ বাহিনীর হাতে নির্যাতিত অনেকে বক্তৃতা করেন।
লালমোহন উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যৰ নজরম্নল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বক্তৃতা করেন জননেতা তোফায়েল, আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, বরিশাল বিভাগীয় দায়িত্বে সাংগঠনিক সম্পাদক আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাসিম, চরফ্যাশনের এমপি আব্দুলস্নাহ আল ইসলাম জ্যাকব। এছাড়া সমাগত জনতার উদ্দেশে বক্তৃতা করেন নৌকা প্রতীকের প্রাথর্ী নুরম্নন্নবী চৌধুরী শাওন। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, সাইদ আল মাহমুদ স্বপনসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
অভূতপূর্ব জনসমাবেশ থেকে দলীয় কমর্ী-সমর্থক সাধারণ মানুষ সবার প্রশ্ন ছিল_ এত লোক কোত্থেকে এলো? জনতার উত্তাল তরঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতারাও হয়েছেন অভিভূত। খোদ আওয়ামী লীগ প্রাথর্ী শাওন বলেছেন, লালমোহনে এতবড় সমাবেশ আমার জীবনে দেখিনি। তিনি জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে যারপরনাই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। জনসভায় লোকসমাগম দেখে অনেক দোকানি বলেছে, 'যে অবস্থা তাতে হাফিজ সাহেবের নির্বাচন না করাই ভাল। নির্বাচন করার ব্যাপারে তিনি যে কেন্দ্রীয় নির্দেশনার নামে পিছুটান দিয়েছেন তা ভালই করেছেন। অন্যথায় নিজের সম্মানই বাঁচাতে পারবেন না।' সমাবেশ শেষ হতে হয়ত রাত ন'টা বেজে যাবে, কিন্তু সমাগত দর্শক-শ্রোতারা জনসভা ছেড়ে যাচ্ছেন না। সদর রোডেও লোক দাঁড়ানোর ঠাঁইটুকু পর্যনত্ম নেই। নেতৃবৃন্দ সংৰিপ্ত বক্তৃতা দেন। তবে প্রাথর্ী নুরম্নন্নবী চৌধুরী শাওন দীর্ঘ বক্তৃতা দেন।
জনতার বাঁধভাঙ্গা জোয়ারে সমাবেশস্থলে উৎসবের আমেজ নেমে আসে। আলোচনায় অংশ নিয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশন দু'পৰের মতামত নিয়েই ২২ এপ্রিলের পর নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগত অবস্থান নিষিদ্ধের সিদ্ধানত্ম নেন। এখন মেজর হাফিজ অস্বীকার করে বলছেন, তাঁর কোন কথা রাখা হয়নি। তোফায়েল আহমেদ নাসরিন লঞ্চডুবির পর নিহতদের স্মরণে মিলাদ পড়তে এলে হাফিজের লোকজন আমার গাড়ি ভাংচুর করে, আমাকে রক্তাক্ত করে। লালমোহন-তজুমদ্দিনের মানুষ হাফিজের দুঃশাসন থেকে মুক্তি চায়।
আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, কে জয়ী, কে বিজিত হবে সেটি বিষয় নয়। আওযামী লীগ গণতন্ত্রের ভিত শক্তিশালী করতে চায় বলেই অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায়। নির্বাচন কমিশন প্রতিপৰ প্রাথর্ীর বেশ কয়েক দফা দাবি মেনে নেয়ার পরে সে নিত্যনতুন কথা বলছে। মৌমাছি বাহিনী, মার্শাল বাহিনী আর হকিস্টিক বাহিনী অতীতের নির্বাচনের মতো ব্যবহার করতে পারছে না বলেই নির্বাচনে থাকা না থাকা নিয়ে টালবাহানা করছে। আফম বাহাউদ্দিন বেগম জিয়াকে উদ্দেশ করে বলেন, মাননীয় বিএনপি চেয়ারপার্সন আসুন, দেখে যান জনতার ঢল, মানুষের ঐক্যের শক্তির সামনে আপনাদের কোন ষড়যন্ত্রই টিকবে না। ২৪ তারিখের ভোটযুদ্ধে সেটি প্রমাণিত হবে। আব্দুলস্নাহ আল ইসলাম জ্যাকব বলেন, ২৫ বছরের হাফিজীয় দুঃশাসন অবসানের জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনা আমার মতো আরেক তরম্নণ শাওনকে পাঠিয়েছে। উন্নয়ন-অগ্রগতির কথা বিবেচনা করে আপনারা শাওনকে নির্বাচিত করবেন বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।
মেজর হাফিজের আমলে নির্বাচিত অনেকে মঞ্চে উঠে নেতাদের সরিয়ে বক্তৃতা করেন।